কমছে না দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় নৌরুটের যাবজট দুর্ভোগ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)প্রতিনিধি: কমছে না দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের যানজট। ভোগান্তির শিকার একুশ জেলার মানুষ। টানা পঁচিশ দিন ধরে চলছে যানজট। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অপচনশীল পন্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালকেরা। প্রায় সারা বছর লেগে থাকে এই যানজট। এই যানবাহন গুলোকে আটকে রাখা হয় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে সারে তের কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ মোড়ের কল্যাবপুর এলাকায় অথচ দৌলতদিয়া ঘাটে রয়েছে দুইটি টার্মিনাল যার একটিতে মাছের বাজার আর অন্যটি পরে আছে। যেখানে অনেকেই অবৈধ দোকানপাট তুলে বসে। সরকারি টাকায় নির্মিত এসব জিনিস পরে থাকলেও শুধুমাত্র অব্যাবস্থা পনার কারনে এ গুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
অথচ সারে তের কিলোমিটার দুরে কুষ্টিয়া মহাসড়কে গাড়ি গুলো অনিরাপদে রাখা হয় সেখানে না আছে বাথরুমের ব্যাবস্থা না আছে খাবারের হোটেল। ফলে অমানবিক কষ্টের স্বীকার হচ্ছে এই সমস্ত গাড়ির চালক ও হেলপার। সেখানে তারা অনিরাপদ ভাবে রাত্রি যাপন করে। সরজমিন ঘুরে দেখা যায় মহাসড়কের পাশে বাড়িঘর থাকায় তারা স্বাভাবিক ভাবে রাস্তার পাশে ও প্রাকৃতিক কর্ন সারতে পারছে না।
 ফেরি সংকট, ঘাট সংকট, নাব্যতা সংকট, নদীতে তীব্র স্রোত এবং ঘন কুয়াশার কারণে প্রতিনিয়ত থাকে উভয় ঘাটে তীব্র যানজট। এতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার সাধারণ মানুষের রাজধানীর সাথে যোগাযোগে নানা প্রকার দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আজ শনিবার (২০নভেম্বর) ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার জিরো পয়েন্টের ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রায় সহস্রাধিক দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি পড়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ আরও বাড়ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডাব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে ২০ টি ফেরি থাকলেও কয়েকটি ফেরি অন্য ঘাটে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ফেরি মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল করছে ১৬টি। এর ফলে ঘাট এলাকায় বেশ কিছুদিন যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ দেখা দিয়েছে। ঘাট এবং ফেরি বৃদ্ধি পেলে খুব শিগগিরই এই চাপ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ সময় কথা হয় যশোর থেকে অক্সিজেন বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া আল্লার দান কার্গো সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান চালক ইমদাদুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে গোয়ালন্দ মোড়ে এসে সিরিয়ালে আটকা পড়ি। সেখান থেকে গতকাল ভোর পাঁচটায় ছেড়ে দিলে ঘাটে দিকে আসি। এখানে এসে সাত ধরে সিরিয়াল ঠেলে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত আসতে পেরেছি। ঘাট পেতে আরও কতক্ষণ লাগবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।’ ফেরি পেতে এখনো সাত থেকে আট ঘণ্টা লাগবে বলে তাঁর ধারণা।
দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকে থাকা ঢাকাগামী রোজিনা পরিবহনের এক যাত্রী বেলাল হাসান বলেন, ‘সকাল ৯টায় কুমারখালি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। কিন্তু প্রায় তিন ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো ফেরিঘাটে যেতে পারেনি। আরও কত দেরি হতে পারে তা জানি না। স্ত্রী–সন্তান নিয়ে নেমে লঞ্চ দিয়ে পার হবেন তাও পারছি না।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘দৌলতদিয়ায় পাঁচটি ফেরিঘাট আছে। ৫টি ঘাটে ৫টি পন্টুন আছে এবং ১০টি পকেট রয়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে ৭ নম্বর ফেরিঘাটের একটি পকেট বন্ধ রেখে ড্রেজিং করা হচ্ছে। ড্রেজিং শেষ হলে তা খুলে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঘাট বৃদ্ধি করে আট নম্বর ঘাট করা হবে দ্রুতই। সেই সঙ্গে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারলে যানজট অনেকটাই কমবে।’ বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট–বড় মিলিয়ে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে বলে তিনি জানান।