কক্সবাজার শহরে পুলিশের বাঁধায় দশ মিনিটেই শেষ বিএনপির মহাসমাবেশ

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ বিএনপির নেতাকর্মীরা ছোট ছোট করে মিছিল নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহাসমাবেশ  করেছে জেলা বিএনপি। তবে পুলিশের বাঁধায় সেই মহা সমাবেশ ১০ মিনিটেই শেষ হয়ে গেছে।

কক্সবাজার জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সোমবার কক্সবাজারে মহা সমাবেশের ডাক দেয়া হয়। কিন্তু সেই কর্মসূচিকে পন্ড করতেই প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। সোমবার ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল ও বিএনপিসহ অঙ্গসঙ্গগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। সেখান থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সকাল ১০ টার পর ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে শুরু করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তখনই পুলিশের বাধার মুখে দলটি। সেসময় পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা সকাল পৌণে ১১ টার দিকে দলটি মহা সমাবেশ শুরু করে।

বিএনপির মহাসমাবেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খাঁন, বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শামীম উপস্থিত থাকলেও নজরুল ইসলাম খান ও মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য দেয়। পরে পুলিশের সমাবেশ স্থলের দিকে এগুলো দলটি মহাসমাবেশ সেখানেই শেষ করে দেয়।

কক্সবাজার শহর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক বলেন, প্রশাসন ১৪৪ দিয়ে বিএনপির মহাসমাবেশ পন্ড করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধাঁ উপেক্ষা করে মহাসমাবেশ করেছে। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় সমাবেশ শেষ করা হয়।

কক্সবাজার জেলা মহিলাদলের সভানেত্রী নাছিমা আক্তার বকুল বলেন, ৫ ঘন্টার মহা সমাবেশ ছিল। কিন্তু আমরা পুলিশের বাধায় অতটা সময় থাকতে পারিনি। তবে প্রায় ১ ঘন্টা ধরে মিছিল নিয়ে ইদগাহ ময়দানে জমায়েত হয় । এরপর মহাসমাবেশ হয়।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, মহাসমাবেশন আমরা করেছি। ১৪৪ ধারা ভেঙ্গেছি। এদিকে মহা সমাবেশ শেষ হলে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্যজীবি বিষয়ক ও কক্সবাজার ৩ আসনের সাবে সাংসদ লুৎফর রহমানের কাজলের শহরের কলাতলী রোড়স্থ বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার থেকে পুরো শহরের প্রতিটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ভোর থেকে দায়িত্ব পালন করছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।