কক্সবাজার পৌরসভার  নাগরিকদের দিন রাত সেবা দিয়ে মেয়র মুজিব প্রশংসিত হয়েছেন

দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: চলমান দেশব্যাপী  ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের প্রভাবে প্রভাবিত দেশের সর্ব দক্ষিণের  সমুদ্র নগরী পর্যটন জেলা কক্সবাজারের প্রতিটি উপজেলা। জনগণের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও এই প্রভাবে প্রভাবিত। জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় প্রতিদিনই চলছে এই সেবার কার্যক্রম।

চলমান অন্যান্য জেলার চেয়ে কক্সবাজার জেলায় ভোটার হতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর দিকনির্দেশনা। এসকল নির্দেশনার প্রধান লক্ষ্য উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকানো। যেজন্য এই জেলার ভোটারের তথ্য হালনাগাদে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বশীল নির্বাচিত  জনপ্রতিনিধিদের।

অপরদিকে হালনাগাদে সরকার পক্ষ থেকে চাহিদা পত্র জোগাড় করতে দৌড়ের উপর থাকতে হচ্ছে ভোটার হতে ইচ্ছুকদের একই অবস্থা এইসকল পরিবারের প্রধানদের। সবকিছু মিলিয়ে এবারের ভোটার হালনাগাদের কার্যক্রম প্রশংসনীয় বলছেন অনেকে।

কঠিন এবং কষ্টকর এসব সেবাপ্রার্থীরা যেমন অসহনীয় পর্যায়ে একইভাবে সীমাহীন কষ্টে জনপ্রতিনিধিরাও। বিশেষ করে কক্সবাজার জেলা শহরের পৌরসভায় এই প্রভাব অনেক বেশি। প্রতিদিনই হাজারো মানুষের উপচে পড়া ভীড় থাকে কক্সবাজার পৌরসভায়।

অফিস টাইম শেষ করেও ব্যক্তিগত আথবা সামাজিক সাংস্কৃতিক কেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েও রেহাই পাচ্ছে না এই পৌরসভার দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধিরা। যেখানেই যান সেখানেই দিতে হচ্ছে তথ্য হালনাগাদ কাগজে সীল স্বাক্ষর।

পরদিন পূণরায় উপচে পড়া ভীড় জমে পৌর কার্যালয়ে। অপরদিকে সাম্প্রতিক ভোটার হালনাগাদের সেবা দিতে গিয়ে আরও বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে পৌরসভা কতৃক অন্যান্য সেবা প্রার্থীরা।

ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে যখন অফিস কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিরা ব্যস্ত সময় পার করছে অন্যান্য সেবা প্রার্থীরা আগের ছেয়ে অনেকাংশে পিছিয়ে পড়ছে। তাই একদিকে যেমন ভোটার হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা কষ্ট পাচ্ছে অপরদিকে প্রতিদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সেবাপ্রার্থীরাও সম-কষ্টের ভাগীদার হচ্ছে। একযোগে এতোটা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে গিয়ে রিতীমত হিমশিম খাচ্ছে মেয়র কাউন্সিলর সকলেই।

তাই জনগণের এসব দুর্ভোগ ঠেকাতে বিচক্ষণ পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান এবার ভিন্নপন্থা অবলম্বন করলেন। যতদিন ভোটার হালনাগাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ততদিন অব্যাহত থাকবে এই গনসেবা কার্যক্রম। মেয়র মুজিবের পরামর্শে পৌরসভায় দায়িত্বশীল সকল কাউন্সিলরদের নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভা সম্মুখীন শহীদ দৌলত ময়দানে এই সেবা কার্যক্রম উদ্ভোধন করা হয়েছে।

মেয়রের নির্দেশনা ভোটার হালনাগাদের কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই খোলা মাঠে মেয়র নিজেসহ প্রথ্যেক কাউন্সিলরগণ জনগণকে সেবা দিয়ে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় গেল মঙ্গলবার ১৬ আগষ্ট সকাল নয়টা থেকে শুরু হয় এই গনসেবা কার্যক্রম।

এবিষয়ে সংবাদ কর্মীরা মেয়রের সাথে যোগাযোগ করলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, এই সমুদ্র নগরীর পর্যটন জেলা কক্সবাজার পৌর শহরে আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বিশ্বাস করে এ-বিশাল দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণ বিশ্বাস করে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি বানিয়েছেন।

আমি প্রধানমন্ত্রী কতৃক অর্পিত দায়িত্বের চুল পরিমাণ অবহেলা করতে রাজি নয়। এই শহরের মাটিও মানুষ আমার হৃদয়ে জড়িয়ে রয়েছে। তাদের কষ্টে আমি কষ্ট পায়। তাই আমি নিজের বুদ্ধিমত্তায় এই গনসেবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

আমি আমার জনগণের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কাছেও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। কারণ আমার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জনগণ যেমন সাড়া দিয়েছে একইসাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এই গনসেবাই নিরদ্বিধায় জনসেবা দিয়ে যাচ্ছে পৌর পরিষদের সকল কাউন্সিলরগণ।

মেয়রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গনসেবায় সেবাদানকারী কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক প্যানেল মেয়র -২ এবং পৌর ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন কবির বলেন এই গনসেবান অবশ্যই জন দুর্ভোগ এড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কেননা পৌর কার্যালয়ে প্রতিদিন ভোটার হালনাগাদের সেবা প্রার্থীদের উপচে পড়া ভীড়ের কারণে অন্যান্য সেবা প্রার্থীরা ভীড়ের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়। এখন যেহেতু পৌরসভার পাশাপাশি স্থানে এই সেবা কার্যক্রম পৃথকভাবে চালু করা হয়েছে তাই অন্যান্য সেবা প্রার্থীরা সহজেই সেবা পাবে। একই মতামত প্রকাশ করেন ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালাউদ্দিন সেতু।

উক্ত গনসেবা কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে সেবা প্রদান করেন যথাক্রমে, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ মনজুর, কাউন্সিলর আকতার কামাল, কাউন্সিলর মিজানুর রহমান,সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর,জাহেদা আকতার, ইয়াসমিন আকতার, নাছিমা আকতার বকুল,শাহানা আক্তার পাখি কাউন্সিলর রুবেল প্রমুখ।

মেয়র মুজিবুর রহমানসহ সকল জনপ্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেবা প্রার্থী হাজারো উৎসুক জনতা। এসময় ভুক্তভোগীদের অনেকে বলেন এমন জনকল্যাণমুখী প্রশংসনীয় উদ্যোগটা যেন অব্যাহত থেকে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি শুন্যের কোটায় নিয়ে আশা  হবে ইনশাআল্লাহ।