কক্সবাজার জলবায়ু আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন সেনা প্রধান

দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ  কক্সবাজার জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য ১১৯টি ভবন নির্মাণ করছে সেনাবাহিনী জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য ১১৯টি ভবন নির্মাণ করছে সেনাবাহিনী। সদরের

খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ নামে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তু ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য কক্সবাজারে আরও ১১৯টি ৫তলা ভবন নির্মাণ করছে সরকার। খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ নামে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পটিতে জোরেশোরে কাজ শুরু করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে সেনাবাহিনী আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রকল্প কাজ পরিদর্শনে যান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ। পরিদর্শন শেষে নির্ধারিত সময়ে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান।

কক্সবাজার শহরের প্রাণ বাঁকখালী নদী। এই নদীর একপাশে শহর আর অন্যপাশে নির্মিত হয়েছে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য স্থায়ী নতুন ঠিকানা। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প হিসেবে ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০টি ভবনে ঠাঁই হয়েছে ৬০০ উদ্বাস্তুর।

এবার জলবায়ু উদ্বাস্তু এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স¤প্রসারণের কারণে ভূমিহীন আরও ৩ হাজার ৮০৮টি পরিবারের পুনর্বাসনসহ জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্মিত হচ্ছে ১১৯টি ৫তলা ভবন। ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ প্রকল্পের আওতায় সরকারের অর্থায়নে যা বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যে জোরেশোরে চলছে নির্মাণ কাজ। কিছু প্রতিক‚লতা থাকলেও দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানালেন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

পাঁচটি ভবনের নির্মাণ কাজ পাওয়া এনএস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জি. নিখিল চন্দ্র শিকদার বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। ইতিমধ্যে ২০টি ভবনে ৬০০ উদ্বাস্তু বসবাস করছে। এখন আরও ১১৯টি ভবন নির্মিত হচ্ছে। ৫টি ভবন মিলে একটি প্যাকেজ। যার মধ্যে ৫টি ভবনের কাজ আমাদের প্রতিষ্ঠান করছে। গেল নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখ থেকে কাজ শুরু করেছি। আশা করি, নির্ধারিত সময়ে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারব।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এম এস জামান এন্টারপ্রাইজের সত্ত¡াধিকারী কাজী কামরুজ্জামান বলেন, ২টি ভবনের নির্মাণ কাজ দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে। যার মধ্যে একটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। চেষ্টা করছি, সর্বোচ্চটা দিয়ে দ্রæত নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিতে।

এদিকে শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে যান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। পরিদর্শনকালে তিনি সরেজমিনে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে আরও ১১৯টি ৫তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে সেনাবাহিনী এ কাজ বাস্তবায়ন করছে। আগামী ২০২৩ সালে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানান সেনাবাহিনী।

প্রকল্প এলাকায় ভবন ছাড়াও বসবাসকারী জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের জন্য থাকবে জীবিকায়নের ব্যবস্থা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মন্দির, সাইক্লোন শেল্টারসহ পর্যটন শিল্প বিকাশেও প্রকল্প এলাকায় আলাদা জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান সেনাবাহিনী প্রধান।

এর আগে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে যান সেনাবাহিনী প্রধান। তাকে অভ্যর্থনা জানান রামু সেনানিবাস ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। পরে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিক এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর একটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প। জলবায়ু উদ্বাস্তু ও বিমানবন্দর স¤প্রসারণের কারণে ভূমিহীন ৩৮০৮টি পরিবারের পুনর্বাসনসহ এই জনগোষ্ঠীর দারিদ্রতা  হ্রাসের লক্ষ্যে আয়ের পথ উন্মুক্ত করা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পটি ২৪ নভেম্বর ২০২০ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে পাইল ফাউন্ডেশন দিয়ে ১১৯টি ৫ তলা ভবন নির্মাণ অন্যতম। এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় ধর্মীয় উপাসনালয়, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, খেলার মাঠ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থাসহ বিবিধ সুবিধাদি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কর্তৃক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী জুন ২০২৩ এর মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।