ইসলামপুরে গভীর রাতে বসতবাড়ী   ভাংচুর ! প্রতিবাদে মানববন্ধন

মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও, কক্সবাজার: ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরে গভীর রাতে বসত ঘরে ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে।

রবিবার (১২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের হাজী পাড়া ফুটবল মাঠ সংলগ্ন আয়ুবের বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

পাহাড় খেকো ও বন উজাড়ে জড়িত স্হানীয় কুখ্যাত এক সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসীরা বন বিভাগের লোকজনের নাম দিয়ে ভাংচুরে অংশ নেয় বলে জানা গেছে। এসময় তাদের মুখে মুখোশ ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এর প্রতিবাদে গতকাল (সোমবার)  বিকালে স্হানীয় হাজী পাড়া বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে হাজী পাড়ায় মানব বসতির সূচনা হয়। নদী ভাঙ্গন কবলিত, ভূমিহীন ও জলবায়ু উদ্ধাস্ত শ্রেণীর অসহায় দরিদ্র জনগণ নিরূপায় হয়ে বন বিভাগের জমিতে বসতি স্হাপন করে।

কিন্তু সম্প্রতি বনবিভাগের স্হানীয় হেডম্যান, বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জারগন গণহারে চাঁদাবাজি শুরু করেছে।

নতুন কোন ঘর তৈরী অথবা পুরাতন ঘর মেরামত করতে হেডম্যান ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। অন্যথায় তারা ভাংচুর ও বন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে৷

ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের মালিক আয়ুব বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ মুখোশধারী একদল লোক বাসায় এসে ভাংচুর শুরু করে৷ তারা ঘরের চালের টিন, আসবাব পত্র ও ঘেরা বেড়া ভেঙ্গে দেয় ও মহিলাসহ সকলকে মারধর করে।

তিনি আরো জানান, ইতোপূর্বে বন কমকর্তাদের নাম দিয়ে স্হানীয় হেডম্যান শফি আলম ২০ হাজার টাকা নেয়। পরে আরো টাকা দাবী করে হেডম্যান শফি। কিন্তু টাকা না দেয়ায় পাহাড়খেকো সিন্ডিকেটের ইশারায় তথাকথিত উচ্ছেদ চালায়।

টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে হেডম্যান শফি আলম বলেন, বন বিভাগের জমিতে স্হাপনা নির্মানের সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মুখোশধারী লোকজনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, শীতের প্রকোপ থাকায় ভিলেজারদের মুখে কাপড় বাঁধা ছিল।

নাপিতখালী বনবিটের বিট কর্মকর্তা গোলাম কবির ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, স্হানীয় প্রভাবশালী এক সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট এলাকায় শতাধিক পাহাড় কেটে সাবাড় ও শত শত একর বনজমি দখল করে স্হাপনা নির্মান করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হা নেয় নি বন বিভাগ।

কিন্তু সাধারণ জনগণ পুরাতন ঘর মেরামত করলেও বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ফুলছড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার ফারুক আহমদ বাবুল বলেন, বন বিভাগের জমিতে স্হাপনা নির্মানের সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে কাঠসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী জব্দ করা হয়।