আওয়ামী লীগ মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ নিজের ভাগ্য গড়তে আসেনি, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছে। এ কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত এই দেশের মানুষের যতটুক অর্জন সবটুকুই আওয়ামী লীগের হাতে। আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। এজন্য বার বার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয় না।

নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নেতৃত্বশূন্য কোনো দল ইলেকশন করবে, জনগণ ভোট দেবে কী দেখে? চোর, ঠকবাজ, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করা অথবা খুন অস্ত্র চোরাকারবারি সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাদেরকে এদেশের জনগণ ভোট দেবে? তা তো এদেশের জনগণ দেবে না। দেশের মানুষ এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। তারা শুধু জানে আওয়ামী লীগ ও নৌকাকে। এবার বন্যায়ও প্রমাণ হয়েছে নৌকার প্রয়োজনীয়তা। মানুষ নৌকার জন্য হাহাকার করেছে। নৌকা ছাড়া তো গতি নাই এই বাংলাদেশে। এটাও মনে রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কার্যালয় থেকে যুক্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখান থেকে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুল রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী প্রমুখ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জন্ম লগ্ন থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতা শুধু এনে দেয়নি স্বাধীনতার সুফল এখন জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ জনগণের সেবা করে, জনগণের সেবক হিসেবে জনগণের পাশে আছে এবং জনগণের পাশেই থাকবে। সেই আদর্শই জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন। সেই আদর্শ নিয়েই আওয়ামী লীগ চলবে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে বিশ্বে একটা সম্মানজনক স্থানে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ওদের মিথ্যাচার থাকবেই। পদ্মা সেতু নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলে কোন মুখে? ওরা তো কিছুই করে যেতে পারেনি। জাতির পিতা ১৯৭৩ সালে যখন জাপানে যান তারই অনুরোধে যমুনা নদীর ওপর সমীক্ষা হয় কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেটা করে যেতে পারেননি। জিয়াউর রহমান এসে এটা বন্ধ করে দেয়। জেনারেল এরশাদ আসার পর আবার উদ্যোগ নেয় যমুনা সেতু করার। যতটুকু কাজ এরশাদ করে গিয়েছিল। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে খুব বেশি এগুতে পারেনি। কারণ সব জায়গায় তো কমিশন খাওয়ার অভ্যাস। আবার কমিশন তো একজনকে দিলে হবে না। মায়ের জন্য একটা দুই ছেলের জন্য দুইটা, ফালুর জন্য একটা অমুকের জন্য একটা, এই করতে করতে কেউ আর ওখানে কাজ করতে পারত না। এত ভাগে ভাগে তাদের কমিশন দিতে হতো। সেই কারণে কোনো কিছুতে এগুতে পারেনি। আমরা ৯৬ সালে সরকার এসে যমুনা সেতুতে রেললাইন, গ্যাস লাইন, বিদ্যুতের লাইন দিয়ে ডিজাইনটা সংশোধন করে মাল্টিপারপাস ব্রিজ করে তৈরি করি।

তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক বলেছিল যমুনা সেতুতে রেল সংযোগ ভায়াবেল হবে না। আমি বলেছিলাম রেল সব থেকে বেশি ভায়াবেল হবে। আমি বিশ্ব ব্যাংকের কথা রাখিনি। কারণ দেশটা আমরা যতটুকু চিনি জানি এদেশের প্রকৃতি পরিবেশ মানুষ মানুষের কল্যাণ আওয়ামী লীগ যতটা বুঝবে অন্যরা তা বুঝবে না। বুঝবে কী করে? বিএনপির হৃদয়ে আছে পাকিস্তান। তাদের মনেই আছে পাকিস্তান। ‘দিল মে হায় পেয়ারে পাকিস্তান। সারাক্ষণ মনে মনে গুণ গুণ করে ওই গান ই গায় ‘হায় মেরে জান পেয়ারে মান আখগি তারা আসমান কি চান মেরে জান পাকিস্তান এই হলো খালেদা জিয়ার কথা।’ কাজেই এই যাদের মানসিকতা তারা তো বাংলাদেশের ভালো চাইবে না, এটা খুব স্বাভাবিক। এটা নিয়ে দুঃখ করার চিন্তা করার কিছু নাই। ওদের কথা না বলাই ভালো। ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বরং এগুলোকে গুলি গাট্টি বেঁধে পাকিস্তানে পাঠায়ে দিলে ভালো হয়। পাকিস্তানে এখন যে অবস্থা ওখানে থাকলেই তারা ভালো থাকবে। এখনও লাহোরে সোনার দোকানে খালেদা জিয়ার বড় ছবি আছে। তাদের মানসিকতা ওই দিকেই আমাদের বাংলাদেশের জন্য না। এটাও ঠিক এদের জন্মও তো বাংলাদেশে না। না জিয়ার জন্ম বাংলাদেশে, না খালেদা জিয়ার জন্ম বাংলাদেশে। এরশাদও তো কুচ কুচ বিহারী। তারও জন্ম কুচ বিহারে। একমাত্র আমার বাবা ছিলেন এই দেশের। আমিও এই মাটিতে জন্ম। কাজেই এই মাটির টান আলাদা। এখানে আমাদের নাড়ির টান। এদেশের মানুষের ভাগ্য গড়াটাই আমাদের লক্ষ্য, সেজন্য আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগের আদর্শই হচ্ছে জনগণের সেবা করা।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে যখন বিএনপি অংশগ্রহণ করেছে তখন নির্বাচনে নমিনেশন দিয়েছিল কীভাবে? এখান থেকে ফখরুল ইসলাম সাহেব একটা দেয়, রিজভী সাহেব একটা দেয়, লন্ডন থেকে তারেক জিয়া আর একটা দেয়। সকালে একটা নাম যায় তাদের প্রার্থীর, দুপুরে আর একটা নাম যায় তাদের আর একটা প্রার্থী তারপর যায় আর এক জনের নাম। এনাম আহমেদ চৌধুরী এবং মোর্শেদ খান বলে গেছেন তাদের কাছে তারেক জিয়া টাকা চেয়েছে এমন অ্যামাউন্ট চেয়েছিল তারা বলেছিল আমরা দিতে পারব না। তাদের নমিনেশন বাতিল হয়ে যায়। ইলেকশনে যখন তারা বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে সেই ইলেকশনে তারা ভোটই বা পাবে কী? আর সেই ইলেকশন করবেই বা কী? নেতৃত্বশূন্য কোনো দল ইলেকশন করবে জনগণ ভোট দেবে কী দেখে? চোর, ঠকবাজ, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করা অথবা খুন অস্ত্র চোরাকারবারি সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাদের এদেশের জনগণ ভোট দেবে? তা তো এদেশের জনগণ দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ জনগণের সেবা করে, জনগণের সেবক হিসেবে জনগণের পাশে আছে এবং জনগণের পাশেই থাকবে। সেই আদর্শই জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন। সেই আদর্শ নিয়েই আওয়ামী লীগ চলবে। সরকারে থাকি আর বিরোধীদলে থাকি, সবসময় দুর্যোগ দুর্বিপাকে মানুষের পাশে আওয়ামী লীগই সবার আগে ছুটে গেছে, আওয়ামী লীগই সহযোগিতা করেছে। যে কারণে আওয়ামী লীগ মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করেছে। মানুষের বিশ্বাসটাই আমাদের বড় শক্তি। সেই শক্তি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতে আওয়ামী লীগকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।