অভিনব কায়দায় প্রতারণায় বিদেশী নাগরিকসহ গ্রেফতার-৯

মাসুদ রানা: সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশী নাগরিকেরাবিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। জাল ডলার বিনিময়, চোরাচালান, অবৈধভিওআইপি ব্যবসা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানীর নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মতো অপরাধেইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বেশ কয়েকবার ধরা পড়েছে। বর্তমান সময়ে এরকমএকটি প্রতারক চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করে দামী পার্সেল প্রেরণের কথা বলেপ্রতারণার মাধ্যমে সহজ-সরল জনসাধারণের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জঙ্গীবাদ, খুন, ধর্ষণ, নাশকতা এবং অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক এসব অপরাধী চক্রেরসাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য

র‍্যাব সদা তৎপর। ইতোপূর্বে টাকাকে ডলারে রুপান্তরিত করা ও পার্সেল পাঠিয়ে বিপুল পরিমান টাকাআত্মসাৎ করার অভিযোগে এবং মাদকসহ ১৫-২০ জন বিদেশী নাগরিক’কে র‍্যাব-৪ কর্তৃক গ্রেফতারকরা হয়।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করে দামি উপহার পাঠানোর লোভদেখিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো একটিসংঘবদ্ধ চক্র। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে গত ১১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ রাত হতেঅদ্য ১২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ সকাল ০৬ ঘটিকা পর্যন্ত র‍্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল র‍্যাব-৮এর সহযোগীতায় রাজধানীর পল্লবী থানা,রুপনগর থানা এবং দক্ষিণখান থানাধীন এলাকায় অভিযানপরিচালনা করে দামী পার্সেল পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারঅভিযোগে ০৮ টি পাসেপোর্ট, ৩১ টি মোবাইল, ০৩ টি ল্যাপটপ, ০১ টি চেক বই, ০৩ টি পেনড্রাইভ এবংনগদ ৯৫,৮১৫ টাকাসহ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ০৭ জন বিদেশী নাগরিকসহ  ০৯ জন প্রাতরক’কেগ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব-৪ ।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা সংঘবদ্ধ ভাবে দীর্ঘদিন যাবৎঅভিনব কায়দায় বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের সাথে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ফেসবুক ইত্যাদি এর দ্বারা নিজেদেরকে পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশেরনাগরিক হিসেবে প্রকাশ করে। পরবর্তীতে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির পর এক পর্যায়ে দামি উপহারবাংলাদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার জাল বিছানো হয়। এক পর্যায়ে বাংলাদেশের কাস্টমস্অফিসার পরিচয়ে এক নারী ভিকটিমকে ফোন করে বলে তার নামে একটি পার্সেল বিমানবন্দরে এসেছে।উক্ত পার্সেলটি ডেলিভারি করতে কাস্টমস চার্জ হিসেবে মোটা অংকের টাকা বিকাশ/ব্যাংক এ্যাকাউন্টনাম্বারে পরিশোধ করতে বলা হয়। যেহেতু পার্সেলে অতি মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী রয়েছে তাই কাস্টমস চার্জএকটু বেশী হয়েছে বলে তাদেরকে বুঝানো হয়। সন্দেহ বশতঃ কোন প্রতারিত ব্যক্তি সরাসরি টাকা প্রদানকরতে বা দেখা করতে চাইলে প্রতারকরা এসএমএস এর মাধ্যমে জানায় যে, ঐ মুহুর্তে তারা বিদেশেঅবস্থান বা জরুরী কোন মিটিং এ আছেন। বাংলাদেশী সহজ সরল মানুষ তাদের কথায় প্রলুব্ধ হয়েসংশ্লিষ্ট বিকাশ/ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হয়ে আসছে। প্রতারিত ব্যক্তি অর্থ পরিশোধকরার পর তার নামে প্রেরিত পার্সেলটি সংগ্রহ করার জন্য বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে দেখে যে, তার নামে কোন পার্সেল আসে নাই। তখন প্রতারিত ভিকটিম পার্সেল প্রেরণকারী বিদেশী বন্ধুর সাথেবারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে আর পাওয়া যায়না। তখন বুঝতে পারে, সে ভয়াবহপ্রতারণার শিকার হয়েছে। এই দৃশ্য ধৃত আসামীদের দ্বারা প্রতারিত এদেশীয় অজস্র সাধারণ মানুষেরঅনুচিত্র মাত্র।গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং সংশ্লিষ্টঅন্যান্য প্রতারক সদস্যদের গ্রেফতার করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।