অবসরের আসল কারণ জানালেন ডি ভিলিয়ার্স

স্পোর্টস ডেস্ক: হুটহাট ৪ বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগেও দেননি কোনো আভাস। রহস্যময় এবি ডি ভিলিয়ার্সের এসব কাণ্ডে ভক্তদের মনে জমা ছিল অনেক প্রশ্ন। ক্রিকেট অনুরাগীদের কৌতূহল মেটাতে ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’ অবশেষে নিজেই খুলে দিলেন মনের বাক্স। জানালেন ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার মূল কারণ।

দক্ষিণ আফ্রিকার এক সংবাদমাধ্যমে ডি ভিলিয়ার্স জানিয়েছেন, গত বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলার সময়ই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ক্রিকেট আর উপভোগ করছেন না। ৩৭ বছর বয়সী তারকার ভাষ্য, ‘ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটা (অবসর) নিয়ে অনেকবার ভাবতে হয়েছে। আসলে খেলাটা আমার কাছে উপভোগের ব্যাপার। যখন একটা সময়ে এসে মনে হলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়াটা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তখনই উপভোগের জায়গাটা আর থাকেনি।’

গত বছর আইপিএল দুই ভাগে আয়োজন করা হয়েছিল। করোনা সংক্রমণ বাড়ায় ভারতে এপ্রিল-মে মাসে ২৯ ম্যাচ হওয়ার পর স্থগিত করা হয়। বাকি ম্যাচগুলো হয় ছয় মাস পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এই সময়টায় শারীরিকের চেয়ে মানসিক পরীক্ষা বেশি দিতে হয়েছে বলে মনে করেন ডি ভিলিয়ার্স।

তিনি বলেন, ‘আইপিএল দুই ভাগে হওয়ায় কোয়ারেন্টিনের সময়সীমাও বেড়েছে। জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে বিষয়গুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অধৈর্য্যের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।’

ডি ভিলিয়ার্সের কাছে ক্রিকেট শুধু জয়-পরাজয়ের জায়গা নয়, আনন্দ-উপভোগেরও। নিজের সেই তৃপ্তির জায়গায় যখন মরিচা পড়েছে, আর সময় নেননি, ‘ক্রিকেটে আমার সামর্থ্য, শক্তি ও দক্ষতার সবটুকু নিংড়ে দিয়েছি। উপভোগের মন্ত্র নিয়ে আমি খেলে গিয়েছি। যে মুহূর্ত থেকে মন আর সায় দেয়নি, তখনই বুঝেছি সরে যাওয়ার সময় হয়েছে।’

আইপিএলের সবচেয়ে বড় নিলামের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। দল বাড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বাড়তে যাচ্ছে। কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি কাকে রেখে দেয়, সেটা জানার কৌতূহল ছিল সবার মাঝে। বিশেষ করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ভক্তরা জানার অপেক্ষায় ছিলেন ডি ভিলিয়ার্সকে দল রেখে দেয় কি না।

উত্তর জানতে বেশি দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানিয়ে দেয় তারা শুধু তিন ক্রিকেটার বিরাট কোহলি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মোহাম্মদ সিরাজকে ধরে রাখছে। এরপরও ডি ভিলিয়ার্স ভক্তরা আইপিএলে তার নতুন ঠিকানা জানতে উতলা ছিলেন। কিন্তু সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক গত বছরের নভেম্বরে জানিয়ে দেন, আইপিএল দূরে থাক; তিনি আর ক্রিকেটই খেলবেন না।